হার্ডওয়্যার মাস্টার 101 [পর্ব-১] :: [প্রসেসর]
আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হল যে কম্পিউটার এর প্রান বা হার্ট কি? আপনি কি বলবেন?
আপনি যেটাই বলুন না কেন, কম্পিউটার এর যে আসলেই হার্ট আছে সেটা সত্যি। আর সেই হার্ট হচ্ছে প্রসেসর। প্রতি সেকেন্ডে সফটওয়্যার এর মাধ্যমে দেয়া আপনার কমান্ড প্রসেস করাই প্রসেসর এর কাজ। তো আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আপনি যেই প্রসেসর নিতে চাচ্ছেন সেটি আসলেই আপনার কথামত কাজ করার মত ক্ষমতাশালী কিনা? অফিস এর কাজ অথবা হেভি গেমিং কিংবা রেন্ডারিং এর জন্য আপনার প্রসেসর আসলেই উপযোগী কিনা কিংবা কিভাবে খুজে নিবেন আপনার জন্য উপযোগী প্রসেসর সেটা জানাতেই আমি এসে গেছি “হার্ডওয়্যার মাস্টার ১০১” নিয়ে আপনাদের সামনে।
গভীরে যাবার আগে আপনার বেসিক কে পোক্ত করে নিন। সিপিউ এর কিছু টার্মস এর সাথে পরিচিত হয়ে নেই চলেন।
সকেটঃ সকেট হচ্ছে একটি Physical Component যেটা একটা মাদারবোর্ড এর সাথে প্রসেসর এর Physical ও ইলেকট্রিক্যাল কানেকশন এ সহায়তা করে।
সকেট
সকেট
প্রসেসর এর ভেতরের কোর এর ডিজাইন
ক্যাশ মেমরিঃ এটি প্রসেসর এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ক্যাশ মেমরি হচ্ছে এক ধরনের মেমরি যা প্রসেসর এর সাথে যুক্ত থাকে। যখন প্রসেসরকে কোন কাজের কমান্ড দেয়া হয়, প্রসেসর তখন সেটা ক্যাশ মেমরিতে সংরক্ষণ করে রাখে। কাজের কমান্ড এর তুলনায় ক্যাশ মেমরির পরিমান কম হলে প্রসেসর তা র্যাম ও খুব বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হার্ডডিস্ক এ সংরক্ষণ করে। ফলে প্রসেসর ধীরগতির হয়ে যায় ও পিসি স্লো হয়ে আসে। তাই এই ক্যাশ মেমরি যত বেশি থাকবে ততই ভাল। তবে এই ক্যাশ মেমরি আবার ৩ প্রকার।
L1 – ধারণক্ষমতা বা আকার খুব ছোট, কিন্তু সবথেকে দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে।
L2 - ধারণক্ষমতা বা আকার মাঝারি এবং কাজের গতিও মাঝারি।
L3 - ধারণক্ষমতা বা আকার অনেক বেশি কিন্তু কাজের গতি তুলনামুলক ধীর।
এর মাঝে L2 হচ্ছে সবথেকে ব্যালেন্স এক টাইপের ক্যাশ মেমরি। ইন্টেল সাধারণত L2 আবার L2/3 ২টা একসাথে ব্যাবহার করে। AMD বেশীরভাগ ক্ষেত্রে L1/2/3 ৩টাই একসাথে ব্যাবহার করে বেটার অপটিমাইজেশন এর জন্য।
FSB/ফ্রন্ট সাইড বাসঃ এফএসবি দ্বারা সিপিউ ও মাদারবোর্ডের চিপসেট ও কম্পোনেন্ট এর যোগাযোগের গতির হার কে বুঝানো হয়। এফএসবি যত বেশি হবে, সিপিউ তত তাড়াতাড়ি মাদারবোর্ড ও অন্যান্য যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। তাছারা FSB বেশি হলে আপনি অনেক বেসি বাস স্পীড এর র্যাম ব্যাবহার করতে পারবেন (যদি আপনার মাদারবোর্ড একই মাপের FSB সাপোর্ট করে)।
টার্বো বুস্টঃ এটি মুলত হচ্ছে একটা প্রসেসর এর Highest Speed এ কাজ করার ক্ষমতা। প্রসেসর এর ভোল্টেজ ও থার্মাল দ্বারা টার্বো বুস্ট কে লিমিটেড করে রাখা হয়।
Turbo Boost
AMD vs INTEL
কোর, থ্রেড এবং হাইপারথ্রেডঃ এই টপিক নিয়ে যখন আলোচনা করবো তখন একটা কথাই মনে হবে। Complicated. আসলেই কিছুটা জটিল এই বিষয়টা। থ্রেড/হাইপারথ্রেড হচ্ছে ইন্টেল এর একটি টেকনোলজি যা একটি সিঙ্গেল কোরকে ২ কোরের সমান কাজ করার সাময়িক ক্ষমতা প্রদান করে। অর্থাৎ একটি ফিজিকাল কোরের সাথে একটি ভার্চুয়াল কোর। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে এই থ্রেড/হাইপারথ্রেড কাজের সেটা হচ্ছে আসল বিষয়। শুধু কোর দিয়ে বিবেচনা করলে ইন্টেল এর আছে কম কিন্তু খুব শক্তিশালী কোর। আর সেই তুলনায় AMD এর কোর সংখ্যা বেশি কিন্তু প্রতি কোরে ভোল্টেজ কম, অর্থাৎ কিছুটা দুর্বল।
এখন এই ফিজিকাল কোর আর ভার্চুয়াল কোরের সুবিধা কোথায়? গেমিং এর ব্যাপারে, শুধুমাত্র গেমিং এর ক্ষেত্রে যখন আসি তখন দেখা যায় যে ভার্চুয়াল+ফিজিকাল কোর সাধারন কোর থেকে এগিয়ে। মানে হচ্ছে ৪ কোর ও ৪ থ্রেড এর প্রসেসর ৮ টি ফিজিকাল কোর থেকে এগিয়ে। এর কারণটা বলি। কোর কে কাজ করার জন্য সফটওয়্যার এর মাধ্যমে কমান্ড দেয়া হয়। আর যখন একটি কোরে একটি থ্রেড বা ভার্চুয়াল কোর যুক্ত হয় সেটি সফটওয়্যার এর সাথে একটা ফিজিকাল কোর থেকে বেশি ভালভাবে কমিউনিকেট করতে পারে। মডার্ন গেমগুলো যেমন Battlefield 4, Watch Dogs, AC Unity এরা কোয়াড কোর এর ক্ষেত্রে সবগুলো কোর কেই Utilize কোরে। সো থ্রেড ব্যাবহার করার ফলে মিনিমাম কোর ব্যাবহারের পর এরা সেই কোর এর সাথের থ্রেড কে সম্পূর্ণ ব্যাবহার কোরে। আগেই বলেছি যেহেতু থ্রেড সফটওয়্যার এর সাথে বেশ ভালভাবে কমিউনিকেট কোরে, সুতরাং সেই থ্রেডগুলো একটা কোরের থেকেও বেশি পরিমানে অপটিমাইজ হয়। Bingo!! তাই গেমিং এর ক্ষেত্রে ইন্টেল এর i5 ৪ কোরের প্রসেসর AMD এর ৮ কোরের প্রসেসর এর সমান ও কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। কিন্তু যেই সকল গেম সিপিউ ইন্টেন্সিভ নয় বা ফিজিকাল কোর কে বেশি অপটিমাইজ কোরে, সেইখানে AMD এগিয়ে আছে। যেমন Battlefield 3. বেঞ্চমার্কে দেখা গেছে যে BF3 থ্রেড বা ভার্চুয়াল কোর থেকে ফিজিকাল কোর কে বেশি Utilize করে। কিন্তু ৭০% কাজের ক্ষেত্রেই ডেডিকেটেড বা ফিজিকাল কোর ভার্চুয়াল বা থ্রেড থেকে বেশ এগিয়ে। সো শুধু গেমিং, গেমিং গেমিং চিন্তা করলে ইন্টেল এর Advantage হচ্ছে অনেক বেশি। Thanks to HYPER THREADING.
BATTLEFIELD 4
Multi Tasking
টিপসঃ
১. বেশি পরিমান কোর, বেশি ক্লক স্পীড ও বেশি ক্যাশ মেমরির প্রসেসর নেবার চেষ্টা করবেন।
২. বেশি ক্লক স্পীড ও কম ক্যাশ মেমরির প্রসেসর থেকে কম ক্লক স্পীড ও বেশি ক্যাশ মেমরির প্রসেসর ভাল কাজ কাজ করে। So Do The Math.
৩. ভবিষ্যতের কথা একটু ভাববেন। এখন সবাই যেটা নিচ্ছে, নাচতে নাচতে সেটা নিলে পরে হয়ত পস্তাবেন। তাই আগে ভাবুন আপনার কাজ কি হবে, গেমিং না মাল্টি টাস্কিং? তারপর সব ঠিক করুন। সামান্য কিছু টাকা বাচাবার জন্য এমন কিছু নিবেন না যা ৬ মাস পরেই ডেড হয়ে যাবে। লং টার্ম এ আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারবে আপনার কাজের জন্য এমন প্রসেসর নিন।
সাজেশনঃ
Low end gaming rig- 1st: AMD FX-6300
2nd: Intel Core i3 4150
Mid-level Gaming CPU Recommendation – 1st: AMD FX-8350 PILEDRIVER
2nd: Intel Core i5-4570
High-end Gaming CPU Recommendation – 1st: Intel Core i5-4690K
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন