বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৫

হার্ডওয়্যার মাস্টার

হার্ডওয়্যার মাস্টার 101 [পর্ব-১] :: [প্রসেসর]

H Master
আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হল যে কম্পিউটার এর প্রান বা হার্ট কি? আপনি কি বলবেন?
আপনি যেটাই বলুন না কেন, কম্পিউটার এর যে আসলেই হার্ট আছে সেটা সত্যি। আর সেই হার্ট হচ্ছে প্রসেসর। প্রতি সেকেন্ডে সফটওয়্যার এর মাধ্যমে দেয়া আপনার কমান্ড প্রসেস করাই প্রসেসর এর কাজ। তো আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আপনি যেই প্রসেসর নিতে চাচ্ছেন সেটি আসলেই আপনার কথামত কাজ করার মত ক্ষমতাশালী কিনা? অফিস এর কাজ অথবা হেভি গেমিং কিংবা রেন্ডারিং এর জন্য আপনার প্রসেসর আসলেই উপযোগী কিনা কিংবা কিভাবে খুজে নিবেন আপনার জন্য উপযোগী প্রসেসর সেটা জানাতেই আমি এসে গেছি “হার্ডওয়্যার মাস্টার ১০১” নিয়ে আপনাদের সামনে।
b576e0c9bde906bcf4c372f9ffea2baa_large
গভীরে যাবার আগে আপনার বেসিক কে পোক্ত করে নিন। সিপিউ এর কিছু টার্মস এর সাথে পরিচিত হয়ে নেই চলেন।
সকেটঃ সকেট হচ্ছে একটি Physical Component যেটা একটা মাদারবোর্ড এর সাথে প্রসেসর এর Physical ও ইলেকট্রিক্যাল কানেকশন এ সহায়তা করে।
775-478-socket-cpu-adapter
সকেট
p4pins440
সকেট
কোরঃ সহজ ভাবে বলতে গেলে কোর হচ্ছে এক একটি আলাদা সিপিউ। বর্তমানে কয়েকটি আলাদা সিপিউ নিয়ে মাল্টি কোর এর প্রসেসর তৈরি করা হয়। যেমন ধরুন পেন্টিয়াম ৪ হচ্ছে সিঙ্গেল কোর অর্থাৎ একটি আলাদা সিপিউ। কোর ২ ডুও হচ্ছে ২ কোরের সিপিউ যেখানে ২ টি আলাদা সিপিউ কে একত্র করে মাল্টি কোর সিপিউ তে পরিনত করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে সর্বচ্চ ৮ কোরের প্রসেসর পাওয়া যায়।
4ZZQL
প্রসেসর এর ভেতরের কোর এর ডিজাইন
GHz/গিগাহার্টজঃ GHz হচ্ছে একটি একক যা প্রসেসর এর কাজের গতি নির্দেশ করে। একটি প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে কত দ্রুত কাজ করতে পারে তা এই গিগাহার্টজ এককে প্রকাশ করা হয়। ১গিগাহার্টজ=১ বিলিয়ন সাইকেল পার সেকেন্ড। গিগাহার্টজ যত বেশি হবে, প্রসেসর তত শক্তিশালী হবে।
ক্যাশ মেমরিঃ এটি প্রসেসর এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ক্যাশ মেমরি হচ্ছে এক ধরনের মেমরি যা প্রসেসর এর সাথে যুক্ত থাকে। যখন প্রসেসরকে কোন কাজের কমান্ড দেয়া হয়, প্রসেসর তখন সেটা ক্যাশ মেমরিতে সংরক্ষণ করে রাখে। কাজের কমান্ড এর তুলনায় ক্যাশ মেমরির পরিমান কম হলে প্রসেসর তা র‍্যাম ও খুব বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হার্ডডিস্ক এ সংরক্ষণ করে। ফলে প্রসেসর ধীরগতির হয়ে যায় ও পিসি স্লো হয়ে আসে। তাই এই ক্যাশ মেমরি যত বেশি থাকবে ততই ভাল। তবে এই ক্যাশ মেমরি আবার ৩ প্রকার।
L1 – ধারণক্ষমতা বা আকার খুব ছোট, কিন্তু সবথেকে দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে।
L2 - ধারণক্ষমতা বা আকার মাঝারি এবং কাজের গতিও মাঝারি।
L3 - ধারণক্ষমতা বা আকার অনেক বেশি কিন্তু কাজের গতি তুলনামুলক ধীর।
এর মাঝে L2 হচ্ছে সবথেকে ব্যালেন্স এক টাইপের ক্যাশ মেমরি। ইন্টেল সাধারণত L2 আবার L2/3 ২টা একসাথে ব্যাবহার করে। AMD বেশীরভাগ ক্ষেত্রে L1/2/3 ৩টাই একসাথে ব্যাবহার করে বেটার অপটিমাইজেশন এর জন্য।
FSB/ফ্রন্ট সাইড বাসঃ এফএসবি দ্বারা সিপিউ ও মাদারবোর্ডের চিপসেট ও কম্পোনেন্ট এর যোগাযোগের গতির হার কে বুঝানো হয়। এফএসবি যত বেশি হবে, সিপিউ তত তাড়াতাড়ি মাদারবোর্ড ও অন্যান্য যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। তাছারা FSB বেশি হলে আপনি অনেক বেসি বাস স্পীড এর র‍্যাম ব্যাবহার করতে পারবেন (যদি আপনার মাদারবোর্ড একই মাপের FSB সাপোর্ট করে)।
টার্বো বুস্টঃ এটি মুলত হচ্ছে একটা প্রসেসর এর Highest Speed এ কাজ করার ক্ষমতা। প্রসেসর এর ভোল্টেজ ও থার্মাল দ্বারা টার্বো বুস্ট কে লিমিটেড করে রাখা হয়।
TurboBoost2_0
Turbo Boost
AMD vs INTEL: কোটি টাকার প্রশ্ন বললেও ভুল হয়ে যাবে এটি। আসলেই মাথা খারাপ করে দেবার মত প্রশ্ন। তবে চিন্তার কিছু নেই। এই আলোচনা শেষে আপনি মোটামুটি INTEL/AMD ২টা সম্পর্কেই ধারনা পাবেন এবং আপনার কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে আপনার জন্য সঠিক প্রসেসর পছন্দ করতে পারবেন। কে ভাল কে খারাপ সেই তর্ক নয়। ইন্টেল মূলত সবথেকে দামি প্রসেসর যার আছে সবথেকে সেরা পারফরমেন্স। আর AMD হচ্ছে আপনার বাজেট প্রসেসর। এমন এমন দামে আপনি এমন এমন জিনিস পাবেন যা ইন্টেল এ পাবার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারবেন না। তবে AMD এর হিটিং সমস্যা আছে আর ইন্টেল এর ডলার টু পারফরমেন্স রেশিও কম। এই ২ কোম্পানির এ ভাল খারাপ আছে। আপনাকে আগে নিজের চাহিদা সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি কি চান। আপনি কি Home User নাকি আপনি গেমার। আপনি কি বাজেট এর ভেতরে সেরা গেমিং পারফরমেন্স চান নাকি আপনি আল্টিমেট পারফরমেন্স চান। আপনি কি ওভারক্লকার? আপনার প্রসেসরকে আপনি কি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চান?
intel-vs-amd
AMD vs INTEL
আশা করি আপনি বের করে ফেলেছেন আপনি কি চান। এইবার আসুন গভীরে প্রবেশ করি।
কোর, থ্রেড এবং হাইপারথ্রেডঃ এই টপিক নিয়ে যখন আলোচনা করবো তখন একটা কথাই মনে হবে। Complicated. আসলেই কিছুটা জটিল এই বিষয়টা। থ্রেড/হাইপারথ্রেড হচ্ছে ইন্টেল এর একটি টেকনোলজি যা একটি সিঙ্গেল কোরকে ২ কোরের সমান কাজ করার সাময়িক ক্ষমতা প্রদান করে। অর্থাৎ একটি ফিজিকাল কোরের সাথে একটি ভার্চুয়াল কোর। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে এই থ্রেড/হাইপারথ্রেড কাজের সেটা হচ্ছে আসল বিষয়। শুধু কোর দিয়ে বিবেচনা করলে ইন্টেল এর আছে কম কিন্তু খুব শক্তিশালী কোর। আর সেই তুলনায় AMD এর কোর সংখ্যা বেশি কিন্তু প্রতি কোরে ভোল্টেজ কম, অর্থাৎ কিছুটা দুর্বল।
এখন এই ফিজিকাল কোর আর ভার্চুয়াল কোরের সুবিধা কোথায়? গেমিং এর ব্যাপারে, শুধুমাত্র গেমিং এর ক্ষেত্রে যখন আসি তখন দেখা যায় যে ভার্চুয়াল+ফিজিকাল কোর সাধারন কোর থেকে এগিয়ে। মানে হচ্ছে ৪ কোর ও ৪ থ্রেড এর প্রসেসর ৮ টি ফিজিকাল কোর থেকে এগিয়ে। এর কারণটা বলি। কোর কে কাজ করার জন্য সফটওয়্যার এর মাধ্যমে কমান্ড দেয়া হয়। আর যখন একটি কোরে একটি থ্রেড বা ভার্চুয়াল কোর যুক্ত হয় সেটি সফটওয়্যার এর সাথে একটা ফিজিকাল কোর থেকে বেশি ভালভাবে কমিউনিকেট করতে পারে। মডার্ন গেমগুলো যেমন Battlefield 4, Watch Dogs, AC Unity এরা কোয়াড কোর এর ক্ষেত্রে সবগুলো কোর কেই Utilize কোরে। সো থ্রেড ব্যাবহার করার ফলে মিনিমাম কোর ব্যাবহারের পর এরা সেই কোর এর সাথের থ্রেড কে সম্পূর্ণ ব্যাবহার কোরে। আগেই বলেছি যেহেতু থ্রেড সফটওয়্যার এর সাথে বেশ ভালভাবে কমিউনিকেট কোরে, সুতরাং সেই থ্রেডগুলো একটা কোরের থেকেও বেশি পরিমানে অপটিমাইজ হয়। Bingo!! তাই গেমিং এর ক্ষেত্রে ইন্টেল এর i5 ৪ কোরের প্রসেসর AMD এর ৮ কোরের প্রসেসর এর সমান ও কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। কিন্তু যেই সকল গেম সিপিউ ইন্টেন্সিভ নয় বা ফিজিকাল কোর কে বেশি অপটিমাইজ কোরে, সেইখানে AMD এগিয়ে আছে। যেমন Battlefield 3. বেঞ্চমার্কে দেখা গেছে যে BF3 থ্রেড বা ভার্চুয়াল কোর থেকে ফিজিকাল কোর কে বেশি Utilize করে। কিন্তু ৭০% কাজের ক্ষেত্রেই ডেডিকেটেড বা ফিজিকাল কোর ভার্চুয়াল বা থ্রেড থেকে বেশ এগিয়ে। সো শুধু গেমিং, গেমিং গেমিং চিন্তা করলে ইন্টেল এর Advantage হচ্ছে অনেক বেশি। Thanks to HYPER THREADING.
2369155-construction_1p_1920x1080
BATTLEFIELD 4
এবার আসা যাক মাল্টি টাস্কিং এ। ব্রাউজ করছেন, গান না শুনলে চলে নাকি। ব্যাকগ্রাউন্ড এ দেখি আবার একটা ভিডিও কনভার্ট করছেন। ওমা!!! স্কাইপ আর ইয়াহু মেসেঞ্জার দেখু চালু। সাথে আবার আছে একগাদা ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস। এই যদি আপনার অবস্থা হয় তাহলে আপনার ভরসা হচ্ছে বেশি সংখ্যক ফিজিকাল কোরযুক্ত প্রসেসর। In this case, AMD is UNBEATABLE. যেহেতু AMD এর ফিজিকাল কোর অনেক বেশি ও ক্যাশ মেমরি বেশি, সো এই ধরনের মাল্টি টাস্কিং আপনার জন্য হয়ে যাবে ছেলেখেলা। ইন্টেল যে মাল্টি টাস্কিং এ খারাপ সেটা নয়। তবে একই দামের ৪ কোরের i5 ও ৮ কোরের Bulldozer এর তুলনা করলে ইন্টেল পাত্তাই পাবে না। নরমাল ভিডিও এডিটিং, এডোবি এর কাজকর্ম করতে চাইলে এই AMD হবে আপনার প্রথম পছন্দ।
multitask2
Multi Tasking
সিরিয়াস ভিডিও এডিটর কিংবা রেন্ডারিং এর ক্ষেত্রে আবার সেই ইন্টেল। কারন সেই একটাই, মাল্টি থ্রেড যা সফটওয়্যার দ্বারা সম্পূর্ণ Utilize হয়। তাই Adobe Premier Pro, Maya, Cinema 4D তে হেভি হেভি রেন্ডার করা যদি হয় আপনার নিত্তদিনের কাজ, ইন্টেল হওয়া উচিত আপনার প্রথম পছন্দ।
টিপসঃ
১. বেশি পরিমান কোর, বেশি ক্লক স্পীড ও বেশি ক্যাশ মেমরির প্রসেসর নেবার চেষ্টা করবেন।
২. বেশি ক্লক স্পীড ও কম ক্যাশ মেমরির প্রসেসর থেকে কম ক্লক স্পীড ও বেশি ক্যাশ মেমরির প্রসেসর ভাল কাজ কাজ করে। So Do The Math.
৩. ভবিষ্যতের কথা একটু ভাববেন। এখন সবাই যেটা নিচ্ছে, নাচতে নাচতে সেটা নিলে পরে হয়ত পস্তাবেন। তাই আগে ভাবুন আপনার কাজ কি হবে, গেমিং না মাল্টি টাস্কিং? তারপর সব ঠিক করুন। সামান্য কিছু টাকা বাচাবার জন্য এমন কিছু নিবেন না যা ৬ মাস পরেই ডেড হয়ে যাবে। লং টার্ম এ আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারবে আপনার কাজের জন্য এমন প্রসেসর নিন।
সাজেশনঃ
Low end gaming rig- 1st: AMD FX-6300
2nd: Intel Core i3 4150
Mid-level Gaming CPU Recommendation – 1st: AMD FX-8350 PILEDRIVER
2nd: Intel Core i5-4570
High-end Gaming CPU Recommendation – 1st: Intel Core i5-4690K

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন